Royel Bengle Tigers

Advertisements

নবী করিম (সা:) বলেন—

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোন মুমিনের দুঃখ দূর করে দেয়, আল্লাহ্ কেয়ামতের দিন তার দুঃখ দূর করে দিবেন। যে ব্যক্তি কোন বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির বিপদ দূর করে দেয়, আল্লাহ্ দুনিয়াতে ও আখেরাতে তার বিপদ দূর করে দিবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহ্ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। যে বান্দা আপন ভাইকে সাহায্য করবে, আল্লাহ্ সে বান্দাকে সাহায্য করবেন। যে ব্যক্তি জ্ঞান লাভের জন্য কোন রাস্তা গ্রহণ করে, তার অসীলায় আল্লাহ্ তার জন্য জান্নাতের রাস্তা সহজ করে দিবেন। যেসব লোক আল্লাহর ঘরসমূহের মধ্যে কোন ঘরে (অর্থাৎ মসজিদে) সমবেত হবে, কুরআন পড়বে, সকলে মিলিত হয়ে তার শিক্ষা নেবে ও দেবে, তাদের উপর অবশ্যই প্রশান্তি অবতীর্ণ হবে, রহমত তাদের ঢেকে নেবে, ফিরিশ্‌তাগণ তাদের ঘিরে থাকবে আর আল্লাহ্ তাদের কথা এমন সকলের মধ্যে উল্লেখ করবেন যারা তাঁর কাছে উপস্থিত। যে ব্যক্তি তার আমলের কারণে পিছিয়ে পড়বে, তার বংশ পরিচয় তাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে না। ( মুসলিম: ২৬৯৯ )

আমি শুনেছি সেদিন তুমি

আমি শুনেছি সেদিন তুমি – মৌসুমী ভৌমিক
আমি শুনেছি সেদিন তুমি সাগরের ঢেউয়ে চেপে
নীলজল দিগন্ত ছুঁয়ে এসেছো
আমি শুনেছি সেদিন তুমি নোনা বালি তীর ধরে
বহু দূর বহু দূর হেটে এসেছ

আমি কখনো যাই নি জলে কখনো ভাসিনি নীলে
কখনো রাখিনি চোখ ডানা মেলা গাংচিলে
আবার যেদিন তুমি সমুদ্র স্নান -এ যাবে
আমাকে ও সাথে নিও নেবে তো আমায় বল
নেবে তো আমায়
আমি শুনেছি সেদিন নাকি তুমি তুমি তুমি মিলে
তোমরা সদলবলে সভা করে ছিলে
আর সেদিন তোমরা নাকি অনেক জটিল ধাঁধাঁ
না বলা অনেক কথা কথা তুলেছিলে
কেন শুধু ছুটে ছুটে চলা একা একা কথা বলা
নিজের জন্যে বাঁচা নিজেকে নিয়ে
যদি ভালোবাসা না-ই থাকে শুধু একা একা লাগে
কোথায় শান্তি পাব কোথায় গিয়ে বল কোথায় গিয়ে

আমি শুনেছি তোমরা নাকি এখনো স্বপ্ন দেখো
এখনো গল্প লেখ গান গাও প্রাণ ভরে
মানুষের বাঁচা মরা এখনো ভাবিয়ে তোলে
তোমাদের ভালবাসা এখনো গোলাপে ফোটে
আস্থা হারানো এই মন নিয়ে আমি আজ
তোমাদের কাছে এসে দু হাত পেতেছি
আমি দুচোখের গল ভরে শূন্যতা দেখি শুধু
রাত ঘুমে আমি কোনো স্বপ্ন দেখি না
তাই স্বপ্ন দেখব বলে
আমি দুচোখ মেলেছি
তাই তোমাদের কাছে এসে আমি দু হাত পেতেছি
তাই স্বপ্ন দেখব বলে আমি দুচোখ মেলেছি

তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা

তোমাকে অভিবাদন
প্রিয়তমা
– শহীদ কাদরী
ভয় নেই
আমি এমন
ব্যবস্থা করবো যাতে সেনাবাহিনী
গোলাপের গুচ্ছ কাঁধে নিয়ে
মার্চপাস্ট করে চলে যাবে
এবং স্যালুট করবে
কেবল তোমাকে প্রিয়তমা।
ভয় নেই, আমি এমন
ব্যবস্থা করবো
বন-বাদাড় ডিঙ্গিয়ে
কাঁটা-তার, ব্যারিকেড পার
হয়ে, অনেক রণাঙ্গনের
স্মৃতি নিয়ে
আর্মার্ড-কারগুল
ো এসে দাঁড়াবে
ভায়োলিন বোঝাই করে
কেবল তোমার দোরগোড়ায়
প্রিয়তমা।
ভয় নেই, আমি এমন
ব্যবস্থা করবো-
বি-৫২ আর মিগ-২১গুলো
মাথার ওপর গোঁ-গোঁ করবে
ভয় নেই, আমি এমন
ব্যবস্থা করবো
চকোলেট, টফি আর
লজেন্সগুলো
প্যারাট্রুপারদের
মতো ঝরে পড়বে
কেবল তোমার
উঠোনে প্রিয়তমা।
ভয় নেই…আমি এমন
ব্যবস্থা করবো
একজন কবি কমান্ড করবেন
বঙ্গোপসাগরের সবগুলো রণতরী
এবং আসন্ন
নির্বাচনে সমরমন্ত্রীর
সঙ্গে প্রতিযোগিতায়
সবগুলো গণভোট পাবেন একজন
প্রেমিক, প্রিয়তমা!
সংঘর্ষের সব সম্ভাবনা, ঠিক
জেনো, শেষ হবে যাবে-
আমি এমন ব্যবস্থা করবো, একজন
গায়ক
অনায়াসে বিরোধীদলের
অধিনায়ক হয়ে যাবেন
সীমান্তের ট্রেঞ্চগুলোয়
পাহারা দেবে সারাটা বৎসর
লাল নীল সোনালি মাছি-
ভালোবাসার চোরাচালান
ছাড়া সবকিছু নিষিদ্ধ
হয়ে যাবে, প্রিয়তমা।
ভয় নেই আমি এমন
ব্যবস্থা করবো মুদ্রাস্ফীতি কমে গিয়ে বেড়ে যাবে
শিল্পোত্তীর্ণ কবিতার
সংখ্যা প্রতিদিন
আমি এমন
ব্যবস্থা করবো গণরোষের বদলে
গণচুম্বনের ভয়ে
হন্তারকের হাত
থেকে পড়ে যাবে ছুরি,
প্রিয়তমা।
ভয় নেই,
আমি এমন ব্যবস্থা করবো
শীতের পার্কের ওপর বসন্তের
সংগোপন আক্রমণের মতো
অ্যাকর্ডিয়ান বাজাতে-
বাজাতে বিপ্লবীরা দাঁড়াবে শহরে,
ভয় নেই, আমি এমন
ব্যবস্থা করবো
স্টেটব্যাংকে গিয়ে
গোলাপ
কিম্বা চন্দ্রমল্লিকা ভাঙালে অন্তত
চার লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে
একটি বেলফুল
দিলে চারটি কার্ডিগান।
ভয় নেই, ভয় নেই
ভয় নেই,
আমি এমন ব্যবস্থা করবো
নৌ, বিমান আর পদাতিক
বাহিনী
কেবল তোমাকেই চতুর্দিক
থেকে ঘিরে-ঘিরে
নিশিদিন অভিবাদন করবে,
প্রিয়তমা।